পুলিশের অনলাইন সেবায় অসন্তুষ্টি পাল্লাই ভারি
উন্নত দেশের মতো ফোন করেই পুলিশি সহায়তা প্রাপ্তিতে ৯৯৯ সেবায় সন্তুষ্টি থাকলেও অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে অসন্তুষ্টি দৃশ্যমান। একই দশা অনলাইন জিডি কার্যক্রম নিয়েও। একইভাবে সাইবার ক্রাইম সংশ্লিষ্ট মহিলা হেল্প লাইন, ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশনে অসন্তুষ্টির পাল্লাটাই ভারী।
পুলিশ সংস্কার কমিশন পরিচালিত 'কেমন পুলিশ চাই' শীর্ষক জনমত জরিপ ফল থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য-সচিব আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের মাধ্যমে পরিচালিত জরিপে ৮টি চলমান পরিচিত সেবার মধ্যে ৬টি সেবাতেই অসন্তুষ্টি প্রতিভাত হয়েছে। মঙ্গলবার এই ফলাফলটি পুলিশ সংস্কার কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
জনমত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, প্রায় ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ৯৯৯ সেবাটিতে সন্তুষ্ট। তবে ১১ শতাংশই সেবাটি সম্পর্কে জানেন না। জরিপের এ সংক্রান্ত প্রশ্নে অংশগ্রহণ করেছে ২৪ হাজার ৪৪২ জন। তবে সম সংখ্যকের মধ্যে ৪৫ শতাংশ অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা সন্তোষ জনক নয় বলে করেন। বিষয়টি সম্পর্কে না জানার সংখ্যাটাও ২২ শতাংশের বেশি। একইভাবে ৯৯৯ ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার নিয়েও অসোন্তষ রয়েছে ৪২ শতাংশের। কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম সন্তুষ্টি আছে ৪৫ শতাংশের বেশি। তবে এক্ষেত্রেও সেবাটি সম্পর্কে না জানার সংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি।
জরিপে থানায় অনলাইন জিডি কার্যক্রমে ৪৫ শতাংশের মতো সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারেননি যেখানে ১৭ শতাংশের বেশিই সেবাটি সম্পর্কে অবগত নন। একইভাবে নারী, শিশু, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ডেস্ক নিয়েও অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। এ বিষয়ে ৩০ শতাংশ না জানার মধ্যে থাকলেও যারা জানেন তাদের মধ্যে ৩১ শতাংশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
এছাড়াও সাইবার ক্রাইমে নারীরা বেশি আক্রান্ত হলেও এ সংক্রান্ত হেল্প লাইন বিষয়ে ৩৭ শতাংশই জানেন না। জ্ঞাতদের মধ্যে মাত্র ২৮ শতাংশ এ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ ৭২ শতাংশই এই সেবায় অসন্তুষ্ট। ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশনেও সন্তুষ্টির হারটা তলানিতে। সন্তুষ্ট মাত্র ২৪ শতাংশ। জানেন না অসন্তুষ্টি প্রকাশ কারীর চেয়েও বেশি। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা ছিলো মাত্র ৫ শতাংশ।
এছাড়াও ১৪টি পেশাভিত্তিক উত্তরদাতাদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই ছিলেন চাকরীজীবি এবং ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। এর পরের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণকারী হিসেবে প্রকৌশলী ও ব্যবসায়ীদের হার ছিলো ৭ শতাংশ করে। তবে দেশের ৬৪ জেলা থেকেই মতামত পাওয়া গেছে জরিপে। এর মধ্যে ঢাকায় ছিলো সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইনের প্রতি অনুগত দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ চেয়েছেন। ভুয়া বা গায়েবী মামলার অপসংস্কৃতির সংস্কার চেয়েছেন ৯৫ শতাংশ। একইসঙ্গে সাধারণের চেয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন জনিত অপরাধের ইউনিফর্মধারী পুলিশের শাস্তি দ্বিগুণ করে আইন সংস্কারের জোর সুপারিশ করা হয়েছে।
জরিপে উঠে এসেছে পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অবসান চান ৮৯.৫ শতাংশ উত্তরদাতা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশের দুর্নীতি বন্ধ চান ৭৭.৯ শতাংশ উত্তরদাতা। এছাড়া গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বিবেচনায় অপরাধী পুলিশকে শাস্তির আওতায় আনার পক্ষে ৭৪.৯ শতাংশ উত্তরদাতা। ভুয়া এবং গায়েবি মামলার অবসান চান ৯৫ শতাংশ উত্তরদাতা।
কোন কোন ক্ষেত্রে সংস্কার জরুরি মনে করেন- এমন প্রশ্নে পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অবসান চান ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশের দুর্নীতি বন্ধ চায় ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ। এছাড়া গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বিবেচনায় অপরাধী পুলিশকে শাস্তির আওতায় আনার পক্ষে মত দিয়েছেন ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা।







